প্রায়
দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর সোমালিয়া থেকে
সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে উগান্ডা।
শুক্রবার দেশটির সেনাবাহিনীর প্রথম ১০৯ সদস্যের একটি দল রাজধানী মোগাদিসু ছেড়ে গেছে। উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা এর আগে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।উগান্ডার সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ক্রিস মাজেজি এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
২০০৭
সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের অধীনে সোমালিয়ায় প্রথম সেনা পাঠিয়েছিল উগান্ডা।
ওই বছর প্রতিষ্ঠিত আফ্রিকান
ইউনিয়ন মিশন ইন সোমালিয়ার
(এএমআইএসওএম) লক্ষ্য ছিল ইসলামপন্থী সশস্ত্র
গোষ্ঠীর হামলা থেকে দেশটির অন্তর্বর্তী
সরকারকে সুরক্ষা দেওয়া।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল
মুহুজি বলেন, ২০ বছরের রক্তক্ষয়
ও ত্যাগের পর সোমালিয়ার নিরাপত্তার
দায়িত্ব দেশটির নিজস্ব বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া
হচ্ছে। ধাপে ধাপে সেনা
প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। ২০২৭ সালের
আগস্টের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ
হওয়ার কথা।
তবে
সোমালিয়ায় উগান্ডার সব সামরিক উপস্থিতি
শেষ হচ্ছে না। দুই দেশের
পৃথক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় মোতায়েন থাকা সেনারা সেখানে
অবস্থান করবেন। বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশনের অধীনে প্রায় ৪ হাজার ৫০০
এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থায় আরও প্রায় ২
হাজার উগান্ডার সেনা দেশটিতে রয়েছেন।
আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের দীর্ঘদিনের
বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে সোমালিয়া। ২০০৭
সালে মোতায়েনের পর উগান্ডার সেনারা
মোগাদিসুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে আল-শাবাবকে হটাতে এবং কৌশলগত এলাকা
পুনর্দখলে সোমালিয়ার সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে।
আফ্রিকান
ইউনিয়নের বিভিন্ন মিশনের অধীনেও উগান্ডার সেনারা দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫
সালে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন সোমালিয়া
(এইউএসএসওএম) দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা
প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং নিজস্ব
বাহিনীকে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার উপযোগী করে তোলার ওপর
গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে মার্কিন ও জাতিসংঘের সহায়তা কমে যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যে মিশনটির ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজতে সোমালিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়নের জন্য আগামী জানুয়ারিতে ১২ মাসের একটি রূপান্তর পরিকল্পনা শুরুর কথা রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড