নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্য, টিকিট বাণিজ্য, রোগীদের খাবার সরবরাহ ও কেবিন ভাড়ায় অনিয়মসহ ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী, স্বজন ও কর্মরত কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে বদলির আদেশ থাকলেও তিনি রহস্যজনক কারণে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মূল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, একতরফাভাবে প্রায় ৫৮ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া দাবি এবং অন্যায্যভাবে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ, মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. বেলায়েত উদ্দিন শেখের পক্ষে এই আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন।
১. চুক্তি লঙ্ঘন ও একতরফা ভাড়া বৃদ্ধি: ২০১৯-২০ অর্থবছরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজ হাসপাতালের ক্যান্টিন ও ফাস্টফুড শপের ইজারা লাভ করে। চুক্তি অনুযায়ী মূল মাসিক ভাড়া ৪০,২৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের দোহাই দিয়ে একতরফাভাবে তা প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৩,৬৪৮ টাকা দাবি করে এবং পরবর্তীতে ৬২,০০০ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। চুক্তি আইনের ১৮৭২ সালের ৬২ ধারা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি ছাড়া একতরফাভাবে চুক্তি পরিবর্তনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
২. অন্যায্য বিদ্যুৎ বিল দাবি: স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের অডিট আপত্তির অজুহাতে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্মারক নং-৫৪৫৮ মূলে ২,৪০,৪৩৩ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাবি করা হয়। পাশাপাশি ৭ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হয়। অথচ মূল ইজারা চুক্তিপত্রের ৫ নম্বর শর্ত অনুযায়ী, ইজারাদারের কোনো গ্যাস বা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিধান নেই; এই ব্যয় সম্পূর্ণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বহন করার কথা।
৩. করোনা মহামারীর ক্ষতি ও হয়রানি: ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে ৫ মাস ক্যান্টিন বন্ধ থাকলেও মানবিক কারণে ইজারাদার নিয়মিত ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে চুক্তির শর্ত ও গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে উল্টো নানাভাবে ইজারাদারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে নিন্মোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে:
অন্যায্য ২,৪০,৪৩৩ টাকার বিদ্যুৎ বিলের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।
ক্যান্টিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি থেকে বিরত থাকা।
হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করা।
মূল চুক্তির নির্ধারিত মাসিক ভাড়া ৪০,২৫০ টাকা পুনর্বহাল করে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ পরবর্তী ভাড়ার সাথে সমন্বয় করা।
বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের নতুন মূল্য তালিকা অনুমোদন করা।
অন্যথায়, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরসহ উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণের মামলা করা হবে বলে নোটিশে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
উক্ত আইনি নোটিশের অনুলিপি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।