এম সাইফুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার টেপারকুটি মোল্লাপাড়া সকুনটারী গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সেতু দীর্ঘ এক যুগ ধরে ভেঙে পানিতে ডুবে রয়েছে। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বলে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটির মধ্যবর্তী অংশ মাঝখান থেকে ভেঙে একেবারে পানির মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বছরের পর বছর সেতুটি এভাবে পড়ে থাকায় বর্তমানে চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে একটি নড়বড়ে কাঠ বা বাঁশের সাঁকো। সেতু না থাকায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে চরম আতঙ্কের মধ্যে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১২ বছর কেটে গেলেও কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভাঙা সেতুটির দিকে ফিরেও তাকাননি। কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা আর উদাসীনতায় অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই এলাকার হাজারো সাধারণ মানুষ।
সেতু না থাকায় এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। সবচেয়ে বিপদে পড়তে হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—জনভোগান্তি লাঘবে দ্রুত এই ভাঙা সেতুটি অপসারণ করে সেখানে নতুন একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক এবং একই সঙ্গে সংযোগ সড়কটি সংস্কারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড