চ্যাম্পিয়নস
লিগে জয়ের ধারায় থাকা
অ্যাস্টন ভিলাকে থামিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পে দুর্দান্ত
পারফরম্যান্সে ইংলিশ ক্লাবটিকে ৩-০ গোলে
হারিয়েছে পাঁচবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। অন্য গোলটি করেন
লামিনে ইয়ামাল।
মঙ্গলবার
(৩ নভেম্বর), নিজেদের মাঠে, ক্যাম্প ন্যু’তে, ইংলিশ
ক্লাবটিকে হারিয়ে, প্রতিযোগিতায় টানা জয়ের ধারায়
থাকা ভিলাকে থামিয়ে দিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচে
জোড়া গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান
ফরোয়ার্ড রাফিনহা। অন্য গোলটি এসেছে
তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালের পা থেকে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায়, আগের ম্যাচে, বর্তমান
চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে হারের ধাক্কা
সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা।
একইসঙ্গে, লিগ পর্বের শীর্ষ
আটে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়েও
নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে কাতালান
ক্লাবটি।
ম্যাচের
শুরু থেকেই, অ্যাস্টন ভিলার ওপর চড়াও হয়ে
খেলতে থাকে বার্সেলোনা। স্বাগতিকদের
‘হাই প্রেসিং’ সামলাতে গিয়ে শুরুতেই বিপাকে
পড়ে উনাই এমেরির দল।
এরই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের
সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। নিজেদের
ডি-বক্সের ভেতর থেকে বল
ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়াও
গোমেস ভুল পাস দেন।
বল সরাসরি চলে যায় লামিন
ইয়ামালের কাছে। ১৯ বছর বয়সী
এই উইঙ্গার, সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ভিলার
গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকিকে পরাস্ত
করে বল জালে পাঠান।
এই গোলের মধ্য দিয়ে, চ্যাম্পিয়ন্স
লিগে, নতুন রেকর্ড গড়েছেন
বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন
ইয়ামাল। ভিলার বিপক্ষে করা গোলটি, তাকে
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে টিনেজ ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
এখন
পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪টি গোল
করেছেন ইয়ামাল। এর মধ্য দিয়ে
পেছনে ফেলেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। কিশোর বয়সে, এই প্রতিযোগিতায়, এমবাপ্পের
গোলসংখ্যা ছিল ১৩। তালিকার
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। টিনেজ বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে
তার গোলসংখ্যা ১০।
বার্সেলোনার
বিপক্ষে শুরুতেই এমন গোল হজমের
পর কিছুটা চাপে পড়ে অ্যাস্টন
ভিলা। তবে দ্রুতই ম্যাচে
ফেরার চেষ্টা করে সফরকারীরা। প্রথমার্ধে,
বেশ কয়েকবার স্বাগতিকদের রক্ষণে চাপ তৈরি করে
তারা। ম্যাটি ক্যাশের জোরালো শট প্রতিহত হয়ে
অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
পরে জোয়াও গোমেসের আরেকটি প্রচেষ্টা আটকে দেন পর্তুগিজ
জোয়াও কানসেলো। বিপজ্জনক এক থ্রু বলের
দিকে এগিয়ে গিয়ে নিকোলাস জ্যাকসনের
আগেই সেটি নিয়ন্ত্রণে নেন
বার্সেলোনার গোলরক্ষক গার্সিয়া।
অন্যদিকে,
বার্সেলোনার প্রেসিংয়ের কারণে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে স্বাভাবিকভাবে বল
বের করতে বেশ বেগ
পেতে হয় ভিলাকে। অ্যান্থনি
গর্ডনের একটি শট ঠেকিয়ে
দেন গোলরক্ষক সুজুকি। এরপর জোহান মানজাম্বির
প্রচেষ্টাও সামাল দিতে হয় গার্সিয়াকে।
দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা
আক্রমণে ব্যস্ত থাকায় প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে
উত্তেজনা বাড়ে।
বিরতির
পর, মাঠে ফিরে আক্রমণের
ধার আরও বাড়ায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনহা। ফারমিন
লোপেজের কাছ থেকে বল
পেয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান
ফরোয়ার্ড। এরপর নিখুঁত শটে
বল পাঠিয়ে দেন গোলপোস্টের নিচের
কোণে। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত
ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ডের
জন্য এটি ছিল আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ গোল।
এরপর
ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালায় অ্যাস্টন ভিলা। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ
নিজেদের হাতেই রাখে বার্সেলোনা। একপর্যায়ে
জোরালো শটে বল ক্রসবারের
ওপর দিয়ে পাঠান কানসেলো।
পরে তার দুর্দান্ত ক্রস
থেকেই বার্সেলোনার তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন
রাফিনহা।
ডান
পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে অসাধারণ
দক্ষতায় বল বাড়িয়ে দেন
কানসেলো। কাছ থেকে সেই
ক্রসে পা ছুঁইয়ে নিজের
দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনহা। চলতি
মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে
এটি ছিল তার ১৯তম
গোল। এ মৌসুমে বার্সেলোনার
আক্রমণভাগে মেইন ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়
নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এদিকে,
ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে বাজানো
হয়নি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ঐতিহ্যবাহী সংগীত। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে আগের দিন মাঠে
সংঘর্ষের পর হৃদ্যন্ত্রের
ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা
যাওয়া তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর
ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল বিশ্বে
শোকের ছায়া নেমে আসে।
ম্যাচ
শেষে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহাও নিজের জয়ের আনন্দের চেয়ে
প্রয়াত ফুটবলারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোকে বেশি গুরুত্ব দেন।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম মুভিস্টারকে তিনি বলেন, জয়টি
সমর্থকদের উৎসর্গ করতে চান। তবে
এদিন ফুটবল নিয়ে কথা বলার
ইচ্ছা নেই তার।
রাফিনহা
বলেন, ‘আমি এই জয়
সমর্থকদের উৎসর্গ করতে চাই। তবে
আজ ফুটবল নিয়ে কথা বলতে
চাই না। হেসুসের পরিবারের
প্রতি সমবেদনা জানাতে চাই। তার আত্মা
শান্তিতে থাকুক।’
তিনি
আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা
যে কারও সঙ্গে ঘটতে
পারে। বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন। আপনি একটি ম্যাচ
খেলতে মাঠে নামবেন, আর
একই ঘটনা আপনার সঙ্গেও
ঘটতে পারে। ক্লাবের পক্ষ থেকে তার
পরিবারের প্রতি শক্তি ও সাহস কামনা
করছি।’
বার্সেলোনার
বিপক্ষে এই ম্যাচটি অ্যাস্টন
ভিলা কোচ উনাই এমেরির
জন্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর
আগে পিএসজির দায়িত্বে থাকাকালে বার্সেলোনার মাঠে, ২০১৭ সালে, ৬-১ গোলের ঐতিহাসিক
হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার।
এবারও শুরুতে গোল হজম করে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রথমার্ধে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার আক্রমণভাগের দক্ষতার কাছে হার মানতে হয় ভিলাকে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড