লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরিতে পদাবনতি এবং অবৈধভাবে নেওয়া বেতন ফেরত দেওয়ার ঘটনা আলোচনার জন্ম দিলেও থেমে নেই অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বহাল তবিয়তে একটি সমবায় ব্যাংকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগৃহীত শিক্ষাগত সনদসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সহকারী শিক্ষক পদে পদাবনতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তোলন করা অতিরিক্ত বেতন-ভাতার অর্থও সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, সরকারি আদেশ ও অর্থ ফেরতের ব্যাংক নথিগুলো গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সরকারি চাকরির নিয়মনীতিকে পাশ কাটিয়ে হাবিবুর রহমান কীভাবে একটি সমবায় ব্যাংকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন—তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তিনি কীভাবে ওই পদে নির্বাচিত হলেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ জানান, হাবিবুর রহমান সমবায় ব্যাংক বা মৌচাক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন—বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত স্বরূপ, সভাপতির দায়িত্বের ধরন এবং সরকারি অনুমতির বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উক্ত বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও সমবায় অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়াও বাঞ্ছনীয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষাগত সনদসংক্রান্ত জালিয়াতি, চাকরিতে পদাবনতি, বেতন ফেরত এবং সরকারি চাকরিজীবী হয়েও ব্যাংক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে তদন্ত করা হোক। অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড