গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে দুই ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে তাদের ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের মোস্তফা পাঠানের পরিবারের সাথে তাদের আপন চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠানের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মোস্তফা পাঠান ও তাঁর দুই ভাই চাষাবাদের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের জমিতে যাচ্ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠানের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় তার ছেলে নাজমুল, সোহেল, স্ত্রী হাজেরা, পুত্রবধূ শান্তা ও মুক্তিসহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—দা, ছেনা, রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপ ও মারপিটে মোস্তফা পাঠান, রুহুল পাঠান ও শরীফ পাঠানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।
আহতদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক শরীফ ও রুহুল পাঠানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোস্তফা পাঠান বাদী হয়ে মো. নাজিম উদ্দিন পাঠান, নাজমুল পাঠান, সোহেল পাঠান, নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা, নাজমুলের স্ত্রী শান্তা ও সোহেলের স্ত্রী মুক্তির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নম্বার: ২৮, তাং- ৩০/১০/২০২৬) দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলো বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ করিম খান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।