জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি
অর্থনীতি
সারাদেশ
দৈনিক প্রথম বাংলা
সোমবার
২ নভেম্বর, ২০২৬
www.dailyprothombangla.com
|
www.facebook.com/dailyprothombangla
|
dailyprothombangla@gmail.com

তাজউদ্দীন মেডিকেলে পরিচালকের রদবদল: অনিয়মের তদন্ত দাবি

তাজউদ্দীন মেডিকেলে পরিচালকের রদবদল: অনিয়মের তদন্ত দাবি

গাজীপুর জেলার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসনিক অনিয়ম, সনদ ও পরীক্ষাবাণিজ্য এবং ক্যান্টিন টেন্ডারে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মুখে সাবেক পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নতুন পরিচালক ডা. কামরুল ইসলাম কামাল। এই পরিবর্তনের ফলে হাসপাতালজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন সাধারণ রোগী, স্থানীয় জনতা এবং প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

গাজীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার লক্ষাধিক মানুষের আস্থার প্রতীক এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছিল। সাম্প্রতিক সময়ে একটি অডিও ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সনদ সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সনদের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী সনদ সংগ্রহ করলে এর পরিমাণ বিশাল অঙ্কের টাকায় দাঁড়ায়। তবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা, সনদের ধরন, সরকারি নির্ধারিত ফি এবং রশিদ যাচাই না করে একে চূড়ান্ত অনিয়ম বলা না গেলেও এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে করানোর সিন্ডিকেট

হাসপাতালে এক্স-রে, প্যাথলজি, ইসিজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে রোগীদের যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হতো, তেমনি পোহাতে হতো চরম ভোগান্তি। কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে রোগীদের বাইরে পাঠাতেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে রেফারেল রেকর্ড ও পরীক্ষার নথি তদন্তের দাবি উঠেছে।

প্রশাসনিক অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি বাদে ১২-১৩ জন ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তাঁদের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে বহাল থেকে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাসপাতালটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন পরিচালকের কাছে প্রত্যাশা

পরিচালক বদলের খবরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের একটি বড় অংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন পরিচালক ডা. কামরুল ইসলাম কামালের যোগদানের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরবে, জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

হাসপাতালের সুশাসন ফেরাতে এবং সেবার মান উন্নত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সনদ প্রদান ও ফি আদায়ের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা।

  • হাসপাতালের পরীক্ষার যন্ত্রপাতি সচল রেখে রোগীদের বাইরে পাঠানোর রেকর্ড খতিয়ে দেখা।

  • অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন ও দীর্ঘমেকী অবস্থানের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।

  • রোগী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।